the importance of puran//পুরানভারতের ইতিহাস রচনার পুরান এর গুরুত্ব?//পুরান

 

পুরান :-

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় পুরান এর স্থান মুখ্য না হলেও একেবারে অগ্রাহ্য নয়। তৎকালীন ভারতের এমন অনেক রাজবংশ আছে যেগুলির বিবরণ পুরান গুলিতে বর্ণিত আছে।উল্লেখ্যযোগ্য, পুরাণে অতীতের ঘটনাসমূহ লিপিবদ্ধ হয় ভবিষ্যৎকালে। প্রত্নতাত্ত্বিক ও অন্যান্য সাহিত্যিক উপাদান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনেক সময় পুরান কর্তৃক সমর্থিত হয়। তবে কেবলমাত্র পুরাণের ওপর নির্ভর করে ইতিহাস রচনার সমীচীন হবে না। কারণ বিভিন্ন সময়ে এগুলির মধ্যে নানা পরিবর্তন ঘটেছে। এক কথায় পুরান হল প্রাচীন কাহিনী সমন্বিত রূপ।

গুরুত্ব

ধর্মীয় অনুশাসনের কথা এর গুলিতে স্থান পেয়ে থাকে। কুরআনে মোট সংখ্যা 18 টি। ঐতিহাসিক উপাদান হিসেবে সমস্ত পুরান গুলি অবশ্য সমান মূল্যবান নয়। ইতিহাস রচনায় কাজে যে সমস্ত পুরান গুলি থেকে সাধারণত তথ্য আহরণ করা যায়। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বিষ্ণুপুরাণ, বায়ুপুরাণ, মৎস্যপুরাণ, ব্রহ্মাণ্য পুরান, গরুড় পুরাণ ,এবং ভবিষ্য পুরাণ ।

পুরান বা মহাপুরানগুলি ছাড়াও আরও বেশ কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুরান আছে সেগুলি উপপুরাণ নামে সমধিক প্রসিদ্ধ বাস্তবে এ গুলির সংখ্যা প্রায় 100।ইতিহাস রচনায় কাজে লাগিয়ে এমন কয়েকটি উপপুরাণ হলো বৃহন্নারদীয়, বৃহধর্ম ও কলিকাপুরান। পুরান গুলি ঠিক যখন রচিত হয়েছিল সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা না গেলেও একথা বলা যেতে পারে যে, এখন যে পুরান গুলি আমরা ব্যবহার করে থাকি সেগুলি রচনাকাল আনুমানিক 400 খ্রিস্টাব্দ থেকে 1600 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে।

কয়েকটি যুগের ক্ষেত্রে এই বিশেষ ভাবে কাজ করে থাকে। মৌর্য বংশের ইতিহাস রচনায় বিশ্বাসযোগ্য উপাদান হলো বিষ্ণুপুরাণ,অন্ধ বা সাতবাহনদের ইতিহাস জানার জন্য মৎস্যপুরাণ, এবং গুপ্ত বংশের আদি বাসস্থান ও প্রারম্ভিক পর্বের ইতিহাস জানার জন্য বায়ুপুরান উপর সাধারণত নির্ভরশীল হতে হয়।কোন কোন পুরানে শাসকদের নামের তালিকা শেষে আভীর,শক,যবন,হুন প্রভৃতি বিদেশের বংশতালিকা লিপিবদ্ধ হয়েছে।

প্রাচীন ভারতবর্ষের ভৌগোলিক জ্ঞানের পরিধিকে বিস্তৃত করে। তবে পুরাণের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো এই যে, এতে বর্ণিত বেশিরভাগ কাহিনী পুরানকাহিনি বা গল্পের পর্যায়ে পরে‌।পুরাণের কিংবদন্তীতে যে সমস্ত ধর্মীয় বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে সেগুলি ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে খুব একটা নিকৃষ্ট যোগ্য নয়। এ উল্লেখিত বিভিন্ন রাজবংশের সন-তারিখ নিয়ে প্রায় সমস্যা দেখা যায়।

রাজনৈতিক দিক ছাড়াও অর্থ- সামাজিক ইতিহাস রচনায় পুরাণে বর্ণিত কলিযুগের সূত্র ধরে প্রাচীন ওআদি মধ্যযুগীয় ভারতবর্ষের সামন্ততান্ত্রিক কাঠামো অনুধাবনের প্রয়াসী হয়েছেন এক শ্রেণীর পন্ডিত। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন রামশরণ শর্মা।বস্তুত এ গুলি রচিত হয়েছিল সমকালীন অর্থ- সামাজিক প্রেক্ষাপট কে সামনে রেখে।এবং এর রচয়িতাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্বাভাবিকভাবেই সমকালীন সমাজের সার্বিক চিত্র এগুলিতে প্রতিফলিত হয়েছে।প্রসঙ্গত বলা যায় বহু-বর্ণ উপকরণের নাম ,নারী জাতির অবস্থান এবং কলিযুগের সম্পর্কে একসঙ্গ ধারণা এ গুলিতে উপস্থাপিত হয়েছে।

উপসংহার

তথাপি ,মনে রাখা দরকার এ গুলিতে লিপিবদ্ধ তথ্য অনেক ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জন দোষে দুষ্ট। এগুলিতে কোন অলীক কাহিনীর লিপিবদ্ধ করণ ও অসম্ভব নয়। তাই এ তথ্যগুলি খুব সাবধানতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়।প্রত্নতাত্ত্বিক অথবা কোনো নির্ভরযোগ্য সাহিত্যিক উপাদানের সাহায্যে এ উল্লেখিত তথ্যগুলো যাচাই করে নিতে হয়।

Leave a Comment

Translate »