Skandagupta’s Vikari-স্কন্দগুপ্তের ভিকারি সম্পর্কে লেখ-

Skandagupta’s Vikari-স্কন্দগুপ্তের ভিকারি

 

Skandagupta’s Vikari-স্কন্দগুপ্তের ভিকারি :গুপ্ত সাম্রাজ্যের ইতিহাস রচনায় যেসব উপাদান গুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, তাদের মধ্যে যেমন রয়েছে দেশীয় সাহিত্যের উপাদান তদাপেক্ষ ঠিক তেমনি রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান । আবার আবার প্রত্নতাত্বিক উপাদান গুলির মধ্যে লিপির ভূমিকা ছিল অদ্বিতীয়। এগুলির অন্যতম ছিল ভিটারি স্তম্ভলেখ।এই লিপি থেকে আমরা বর্বর জাতি হুনজাতির প্রতিরোধকারী শক্তি হিসাবে স্কন্দগুপ্ত সম্পর্কে বহু গুরুত্বপূর্ণ যুগান্তকারী তথ্য জানতে পারি।কুমার গুপ্তের মৃত্যুর পর গুপ্ত রাজবংশের ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমাদের অজানা থেকে যায়।

স্কন্দগুপ্তের সিংহাসন লাভ কে কেন্দ্র করে ঐতিহাসিকদের মধ্যে নানা মতবিরোধ দেখা গেছে।ঐতিহাসিক বলেছেন যে সিংহাসনের যথার্থ উত্তরাধিকারী কুমার গুপ্ত হত্যা করে বা অপসারণ করে স্কন্দগুপ্ত সিংহাসন দখল করেছেন। আবার কোন কোন ঐতিহাসিক বলেছেন যে এই সময় সিংহাসনে যথার্থ দাবিদার ছিলেন ঘটতকজ গুপ্ত।ঐতিহাসিক হেমচন্দ্র রায়চৌধুরী উত্তরাধিকারী এই বিরোধ, দ্বন্দ্ব ,সংঘাত ,ও হত্যালীলা সম্পর্কে কোন তথ্য স্বীকার করেনি। একথা তার এই ভিটারি স্তম্ভ লিপিতে তার কোনো উল্লেখ নেই।।

skandagupta’s-vikari-স্কন্দগুপ্তের-ভিকারি গুরুত্ব:-


ভিটারি স্তম্ভলেখতে স্কন্দগুপ্ত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশংসা মূলক কথা বলা হয়েছে। বহু প্রাচীনকাল থেকে ভারতবর্ষে লীলাভূমি ওপর বর্বর হুনজাতির আক্রমণ ঘটেছে। বর্বর হুন আক্রমণ প্রতিরোধে ইতিহাসে পরু, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য পুষ্যমিত্র শুঙ্গ প্রমূখ নরপতির ন্যায় স্কন্দগুপ্তের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ স্কন্দগুপ্ত যদি হুন আক্রমণ প্রতিহত না করতে না পারতেন তাহলে ভারতের ইতিহাস হয়তো অন্য রূপ ধারণ করত।প্রাচীন ভারতীয় সমাজ-সংস্কৃতির বহমান ধারায় হয়তো ছেদ হত। এই দুধর্ব হুনআক্রমণের ফলে মানব জাতির সামাজিক গৌরবময় সভ্যতার পরিসমাপ্তি ঘটল স্কন্দগুপ্তের ।তিনি অতন্দ্রী প্রহরীর মত সদাসর্বদা জাগ্রত থেকে ভারতে অনিবার্য আকস্মিক ধ্বংসলীলার মধ্য থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। বারানসীর পূর্বদিকে অবস্থিত ভিটারি লেখ থেকে হুন আক্রমণের বাতাবরণের কাহিনী বর্ণিত আছে।এই দুধর্ষ হুনদের আক্রমণ থেকে ভারতবর্ষকে রক্ষা করবার জন্য বিখ্যাত ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার তাকে ‘ভারতের রক্ষাকারী’ বলে অভিহিত করেছেন।


ভিখারীর স্তম্ভলেখ থেকে স্কন্দগুপ্ত কর্তৃক মূলক প্রতিরোধের কাহিনী শুধু পাওয়া যায় না। আরও জানা যায় যে, তিনি তার জীবনদশায় সেরাষ্ট্র, কাম্বের উপকূল গুজরাট ও মালবের আএবলের ওপর কর্তৃত্ব বজায় রেখেছিলেন।দুর্ধর্ষ হুনদের মধ্যে স্কন্দগুপ্তের সাফল্য ছাড়াও তিনি ছিলেন গুপ্তসাম্রাজ্যের শেষ শক্তিশালী ও উল্লেখ্যযোগ্য নরপতি। ব্রাম্ভন ধর্মালম্বী হলেও তিনি ছিলেন পরধর্ম সহিষ্ণু তিনি বৌদ্ধধর্ম ও বিদ্যাচর্চার পূস্বোপোষতা করতেন।নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । দুত পাঠিয়ে চীনের সঙ্গে মৈত্রী প্রতিষ্ঠা করেন।তার শাসন ব্যবস্থা ছিল সুদক্ষ। কৃষির উন্নতির জন্য সেচব্যবস্থার ওপর দৃষ্টি দেন। তিনি মৃতপ্রায় অর্থনীতিকে পুনজ্জীত ও পুনঃসঞ্জিত করে কৃষির উন্নতির নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল ।তার আমলে সুদর্শন হ্রদের বাঁধটি পুনর্নির্মাণ করেন।

Leave a Comment

Translate »