Indian epic /Importance of the two epics in the history of ancient India/the indian epic tradition themes and recensions/ Indian epic poetry/The Mahabharata and Ramayana are the most popular of the epicsপ্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় মহাকাব্য দ্বয় এর গুরুত্ব লেখ।রামায়ণ- মহাভারত/

Ramayan and Mahabharat:-প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের উপাদান বিশেষভাবে সাহিত্যের উপর নির্ভরশীল না হলেও কাব্য গুলিতে সাহিত্যের নিদর্শন পাওয়া যায়। সংস্কৃত ভাষায় রচিত রামায়ণ, মহাভারত এই গ্রন্থটি কেবলমাত্র উপাদান হিসেবে নয়, সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিরাট সম্পদ এবং রামায়ণ, মহাভারত ভারতের ইতিহাসে এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত।

Ramayan and Mahabharat : মহাভারত:-

দুটি মহাকাব্যের মধ্যে মহাভারতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করা যায়।  90,000 শ্লোক সম্বলিত এই গ্রন্থটি পৃথিবীর দীর্ঘতম কাব্য রূপে স্বীকৃত। সাধারণভাবে মনে করা হয় কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ‘বেদব্যাস’মহাভারত রচনা করেছিলেন।  তবে সাম্প্রতিক কালে পণ্ডিতদের মধ্যে এই নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তারা মনে করে এই সুবিধা বিশাল মহাকাব্যটি রচনা বহু বছর ধরে হয়েছে তাই একজন পন্ডিত এর পক্ষে তা রচনা করা সম্ভব নয়।  বহু কবি এই কাব্য রচনা করেছেন,তাই কালস্রোতে তাদের নাম ভেসে গেছে।

তবে মহাভারত কবে রচিত হয়েছে তা নিয়ে যথেষ্ট মতপার্থক্য আছে। বেদ গুলি যেহেতু মহাভারত সম্পর্কে নীরব সেহেতু মনে হওয়া স্বাভাবিক যে মহাভারতের রচনাকাল বৈদিক যুগে (আ:1500খ্রী:-পৃ:600খ্রী:পূ:) এরপরে। পণ্ডিত প্রবর অধ্যাপক উইনটারি নিৎস বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতক থেকে খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতকের মধ্যে মহাভারত রচিত হয়েছিল।

প্রধানত ভৌমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয় নিয়ে কৌরব ও পাণ্ডবদের মধ্যে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ বেধেছিল। উল্লেখ্য,এই যুদ্ধে বিষয়কে কেন্দ্র করেই মহাভারতের ঘটনা আবর্তিত হয়েছে। কৌরব ও পাণ্ডবদের মধ্যে যুদ্ধ মহাভারতের প্রধান বিষয়বস্তু হলেও এর অসংখ্য শ্লোকে বহু চিরন্তন সত্য উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে। যেমন মহাভারতের শান্তিপর্ব যুধিষ্টির বলেছেন,’পাপ করে ফেলে নিজেকে অমানুষ মনে করা উচিত না’সূর্য যেমন রাত্রি শেষে উদিত হয়ে অন্ধকার বিনষ্ট করে তেমনই সৎকর্মের দ্বারা দুষ্কর্ম বিনষ্ট করা যায়।

বস্তুত পক্ষে বিষয়-বৈচিত্র্যমহাভারতের তুলনা মেলা ভার আগেই আলোচিত হয়েছে যে মহাভারত রচিত হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে। স্বাভাবিকভাবেই এই দীর্ঘ সময়ে ভারতের এক বহু তম অংশের অর্থ -সামাজিক ,অবস্থা -ব্যবস্থা, রাজনীতি, ধর্মীয় জীবনযাত্রা, এবং প্রযুক্তিবিদ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য পরিবেশিত হয়েছে এই মহাকাব্যটিতে।

Ramayan and Mahabharat:-রামায়ণ:

রামায়ণ মহাকাব্যে মধ্যে উল্লেখযোগ্য।এই মহাকাব্যের প্রধান চরিত্র রামচন্দ্রের নামানুসারে এর নামকরণ। মহাভারতের তুলনায় রামায়ণ আয়তনে অনেক ছোট। উল্লেখ্য,বর্তমানে যে রামায়ণ আমরা দেখতে পাই তার শ্লোক সংখ্যা 24 হাজার এবং 7 টি ভাগে বিভক্ত। মহাকাব্য রূপে একে আগে পায় বলে একে ‘আদি কাব্য’ বলে। রামায়ণ রচনা করেন ‘বাল্মিকী’তবে মনে রাখা দরকার একজন ব্যক্তির পক্ষে এই কয়েকশো বছর রচনা সম্ভব নয় এই মহাকাব্যের মধ্যে প্রক্ষীপ্ত অংশ আছে। সাধারণভাবে মনে করা হয়, রামায়ণ খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় বা দ্বিতীয় শতক থেকে খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় বা তৃতীয় শতকের মধ্যে রচিত হয়েছিল।

অযোধ্যার রাজা দশরথের পুত্র রাম। তাকে কেন্দ্র করেই রামায়ণের মূল ঘটনাস্রোত প্রবাহিত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য রাম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন বিদেহ রাজকুমার সীতার সঙ্গে। রামচন্দ্রের বিমাতার একান্ত ইচ্ছা ছিল তার নিজের পুত্র ভরতকে সিংহাসনে বসানো, যদিও তার উত্তরাধিকারী ছিলেন রামচন্দ্র। তাঁরই কৌশলে রামচন্দ্র স্বেচ্ছায় সিংহাসন ত্যাগ করেন রাম ।সীতা ও রাম এর একান্ত অনুগত ভাই লক্ষণ কে 14 বছরের জন্য নির্বাসনে পাঠানো হয়। এবং সেখানে সীতাহরণ হয় রাবণের দ্বারা এবং সেই নিয়ে শুরু হয় রাম -রাবণের যুদ্ধ।

রামায়ণের প্রধান চরিত্র হল রাম। উল্লেখ্য,মহাভারতে বর্ণিত কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের বিষয়টি প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যে দ্বারা প্রমাণিত। রামায়নে বর্ণিত রাম রাবণের যুদ্ধ ও অন্যান্য কাহিনী কিন্তু পুরাতাত্ত্বিক বা অন্য কোনো সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত নয়।
প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে কোন যুগকেই মহাকাব্যের যুগ বলা যায়না। তবে এই দুটি গ্রন্থ থেকে সমসাময়িক সমাজ-রাষ্ট্রনীতি-অর্থনীতি সম্পর্কে আভাস পাওয়া যায়। তাই ইতিহাসের উপাদানরূপে এদের মূল্য কম না।

Leave a Comment

Translate »