প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো:

– প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের:-

'হে অতীত কথা কও'

ইতিহাস তথ্যশ্রয়ী, ইতিহাসের উপাদান ইতিহাসকে জীবন্ত করে তোলে, ইতিহাসের সত্যতা নির্ণয়ে সাহায্য করে।ঐতিহাসিকগণ নানাসূত্র থেকে অতীতের সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।এই তথ্যগুলি বিশেষ বৈচিত্র্যপূর্ণ,তবে প্রাচীন ভারতের ইতিহাস নির্ধারণে কোন লিখিত তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না বলেই 'পাথুরে প্রমাণের' উপর নির্ভর করতে হয়। প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার জন্য তথ্যের যথেষ্ট অভাব রয়েছে কারণ প্রাচীন গ্রিসের হেরোডেডাস ও থুকিডিডাস এর মতে লেখকের অভাব রয়েছে।

একাদশ শতাব্দীতে অলবিরুনি বলেছেন যে হিন্দুরা ইতিহাস রচনা সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন। আবার ঐতিহাসিক 'Tod'বলেছেন যে Much disappointment has been felt in europe at the starlity of the historical mare of Hindustan. ভারতবর্ষের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে প্রত্নতাত্তিক উপাদানের এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।ইতিহাসের মূল স্রোতের ধারাবাহিকতার গভীর ঘূর্ণিয়মান ঘটনাপ্রবাহের সুষ্ঠু রূপায়নের প্রবস্তু এক নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক উপাদান বলে স্বীকৃত।

তাই প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান কে 'প্রাচীন ভারত ইতিহাসের নোঙর' বলা চলে।বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির সাহায্যে মাটি খুঁড়ে কিংবা মাটির উপরের স্তর থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন উপাদানের সাহায্যে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা বাস্তবভিত্তিক ইতিহাস রচনা করে ,সেইসব উপাদানকে প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান বলে। প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে ইতিহাসের সৌধ।

কেননা ইতিহাস আর কিছু নয়- তা কেবল মানুষ ও তার কর্মকাণ্ড। এই কর্মকাণ্ড জানার জন্য অন্যতম হাতিয়ার হল প্রত্নবস্তু। ভারতের প্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের কথা জানা যায় লর্ড কার্জনের শাসনকালে। এই সময় এই বিভাগের ডাইরেক্টর অফ জেনারেল ছিলেন জন মার্শাল। এছাড়া তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্যার জন প্রিন্সসেফ,ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও দয়ারাম সাহানি ।শুধু তাই নয় ভারতীয় প্রত্নতত্ত্বের জনক হিসেবে স্বীকৃত স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম এ ব্যাপারে বিশেষভাবে খ্যাতি লাভ করেছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানলিপি বা লেখমালা:-

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে প্রাচীন লিপি একটি মূল্যবান সম্পদ। পাথর, লোহা, সোনা, তামা, ব্রঞ্জ, মাটির তৈরি নানা দ্রব্যাদি ইট ঘরবাড়ি, মন্দির গাত্র এমনকি দেব মুক্তির ওপর নানা লেখা থেকে ইতিহাসে প্রচুর উপাদান সংগৃহীত হয়েছে। এই কারণে লিপিকে 'জীবন্ত দলিল' বলা যেতে পারে। তাই ঐতিহাসিক স্মিথ বলেছেন যে, এই যুগের ইতিহাসের উপাদান হিসেবে সন্দেহাতীতভাবে লিপি সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ স্থানের অধিকারী। আবার ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার এর মতে, প্রাচীন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাস রচনার লিপির গুরুত্ব সর্বাধিক ।প্রকৃতপক্ষে, অন্য উপাদান থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল। ইতিহাসের উপাদান হিসেবে নানা কারণে লিপির গুরুত্ব অপরিসীম।

  • ১.যুদ্ধ-বিগ্রহ, জন্ম -মৃত্যু ,বা বিশেষ কোন ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখা ,মন্দির নির্মাণ, ভূমিদান ,ধর্মপ্রচার রাজকীয় নির্দেশে প্রচার প্রভৃতিকে বহু লিপি উৎকীর্ণ করা হত।এসব ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ ।এগুলি থেকে রাজার নাম, রাজত্বকাল , সন-তারিখ , বিশেষ রাজ্যের আয়তন, রাজ্যজয় ,ধর্মবিশ্বাস অন্যান্য কার্যকলাপের এবং সমকালীন বিভিন্ন বিষয়ের কথা জানা যায়।
    ২.পুরান এবং বিভিন্ন সাহিত্য- গ্রন্থগুলী যুগ ধরে পরিবর্তিত পরিবর্ধিত হয়েছে ।লিপি গুলিকে কিন্তু কোনো অবস্থাতেই পরিবর্তন করা যায় না ।এই কারণে লিপিগুলির সত্যতা প্রশ্নাতীত।
    ৩.পাথর এবং বিভিন্ন ধাতুর উপর লিখিত হওয়ায় লিপি গুলি প্রাকৃতিক দুর্যোগে, পোকামাকড় ও মহাকালের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
    ৪.বহু লিপিতেই সন -তারিখের কোনো উল্লেখ নেই, কিন্তু এর সত্বেও এইসব লিপিতে ব্যবহৃত বর্ণমালা থেকে লিপির কাল নির্ণয় করা যায়।
    ৫. লিপিগুলির প্রাপ্তিস্থান থেকে বিশেষ কোন যুগে এই অত্রবলের ওপর বিশেষ রাজার অধিপত্য বা তার রাজ্যের আয়তন সম্পর্কে একটি ধারণা করা যায়।
    ৬. লিপিতে উল্লেখিত বিষয়সমূহ ও রাজার আদেশ দেশের সামাজিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনের নানাদিকের এর উপর আলোকপাত করে।
    ৭.লিপির খোদাই ও আধার থেকে সমকালীন পাথর ওধাতু সম্পর্কে জানা যায় ।তাই লিপি একটি গুরুত্ব ভূমিকা গ্রহণ করে।
    লেখমালাগুলি সঠিক কি ভাষায় রচিত তার সম্পর্কে আমরা অনেকটাই অজ্ঞাত কারণে এখনও পর্যন্ত অনেক লিপির পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়নি ।তবে মোটামুটি ভাবে বলা যায় যে লিপি গুলি প্রাকৃত সংস্কৃত, মিশ্রিত উপভাষার লেখা ।এই লিপি গুলির বর্ণমালা ছিল ব্রাহ্নী ও খোরষ্টী অক্ষর যুক্ত ‘বিমিশ্রিত’লিপি। অশোকের শিলালিপি গুলি প্রধানত প্রকৃত ভাষায় রচিত।

প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান -দেশি-বিদেশি লিপি:-

ভারতীয় রাজাদের রাজ্যজয় ,রাজপ্রশস্তি, ভূমিদান ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভৃতি বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্নী খ্রীরষ্টী বর্ণমালায় রচিত লিপিগুলিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়- দেশীয় ও বিদেশী লিপি ।দেশগুলির মধ্যে প্রধানত প্রকৃত ভাষায় ও ব্রহ্মী বর্ণমালায় উত্তীর্ণ অশোকের শিলালিপি গুলির মধ্যে প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় ও অদ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। 1837 খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ ঐতিহাসিক জেমস প্রিন্সেফ লিপির পাঠোদ্ধার করেন। এর সাহিত্যিক সূত্র থেকে অশোকের সম্বন্ধে তথ্য পাওয়া যায় তা তার মানবধর্মী ও বিশ্বজননী ক্রিয়া-কলাপ এর সম্যক প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেন ।এছাড়া সমুদ্রগুপ্তের 'এলাহাবাদ প্রশস্তি 'চাণক্য রাজ দ্বিতীয় পুলকেশির 'আইহোল প্রশস্তি 'গৌতমীর পুত্র সাতকর্ণী 'নাসিক প্রশস্তি' রুদ্রদামনের 'জুনাগড় লিপি' বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ভারতের বাইরে এশিয়া মাইনরের বোখাজ- কেই স্থানে প্রাপ্ত বোখাজ-কেই শিলালিপি আর্যদের আগমন সম্পর্কে আলোকপাত করে। পারস্যের বেহিস্থান ,পার্সেপলিস ও নাকশ-ই রুস্তম নামক স্থানে প্রাপ্ত শিলালিপি থেকে ভারত পারস্য যোগাযোগ ও ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলে পারসিক অধিপত্যর কথা জানা যায়।

প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান-সরকারি-বেসরকারি লিপি:-

অশোকের পরবর্তীকালে শিলা লেখাগুলিকে প্রধানত সরকারি ও বেসরকারি এই দুটি ভাগে ভাগ করা যায় ।ইতিহাস সম্পর্কিত জ্ঞানের আকার হিসাবে এই লেখগুলি মূল্য অপরিসীম। সাবধানতার সঙ্গে ব্যবহার করলে এগুলি থেকে কেবল যে রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন দিক পরিস্ফুট হয়,তাই নয় বিজ্ঞান ও কারিগরি বিষয়ে ধ্যান-ধারণা মেলে ।সরকারি লিপিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হরিষেনের ‘এলাহাবাদ প্রশস্তি’ চালুক্যরাজ দ্বিতীয় পুলকেশী ‘আইহোল প্রশস্তি’ ইত্যাদি এবং তাম্রশাসন গুলি সরকারি পর্যায়ে পড়ে।

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় বেসরকারি লেখগুলি এ সাহায্যে করে থাকে। বেসরকারি লেখমালা বলতে যেগুলি ধর্মীয় উল্লেখ্য সরকারি এওিয়ারের বাইরে প্রচারিত হয়।এ প্রসঙ্গে মাইনরে বোখাজ-কই নাম স্হানে একটি লেখা।
সামগ্রিকভাবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, প্রাচীন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাস রচনার উপাদান হিসেবে লিপির সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকারী এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাস রচনায় সাহিত্য থেকে প্রাপ্ত উপাদানগুলির পরিপূরক।লিপি ব্যতীত বহু ঘটনা রাজা ও রাজবংশের নাম চিরদিন অজ্ঞাতই থেকে যেত।

প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান-মুদ্রা:-

প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে মুদ্রার গুরুত্ব অনস্বীকার্য, প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় এই গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য লিপির সত্যতা যাচাই করতে খুবই সাহায্য করে ।প্রাচীনকালে কাগজের প্রচলন ঘটেনি ।স্বাভাবিকভাবে বর্তমান যুগের ন্যায় কাগজে মুদ্রার প্রশ্ন ওঠেনা ।তাই তখন বাণিজ্য ও জিনিসপত্র ক্রয় বিক্রয়ের প্রধান মাধ্যম ছিল এই মুদ্রা ।প্রাচীন ভারতের বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত ভাবে প্রাপ্ত অসংখ্য মুদ্রা ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে নবদিগন্তের উন্মোচন করে। সাধারণত-

  • ১. মুদ্রায় দেওয়া সন তারিখ থেকে মুদ্রাগুলোর কাল নিরূপণ করা যায়।
  • ২. মুদ্রা থেকে রাজার শাসন রাজ্যের আয়তন ও তাদের ধর্ম বিষয়ে জানা যায়।
    ৩. মুদ্রা থেকে প্রাচীন ভারতের রাজার অস্তিত্ব শুধুমাত্র মুদ্রায় পাওয়া যায়।
    ৪. মুদ্রায় ব্যবহৃত ধাতু থেকে সে যুগের রাজনৈতিক অবস্থা জানা যায়
  •  
  • ভারতবর্ষে বহু সাহস্য মুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে। মুদ্রা গুলি সাধারণত বাহ্লীক, সংস্কৃত প্রভৃতি ভাষায় রচিত।প্রাচীন ভারতের মুদ্রা গুলি প্রধানত সিসা, কাঁচ, তামা, রুপা ও সোনা দিয়ে তৈরি হত। বৈদিক যুগের ‘নিক্স ‘ও ‘মনা’ নামে স্বর্ণ মুদ্রা প্রচলন ছিল তা জানা যায়। 1924 খ্রিস্টাব্দে তক্ষশিলার ভিরমাইন্ডে প্রাপ্ত ছাপযুক্ত মুদ্রাগুলোকে সর্বপ্রাচীন ভারতীয় মুদ্রা বলা যেতে পারে। তবে কুষাণ যুগের ইতিহাস রচনায় মুদ্রাকে মেরুদন্ড হিসেবে পরিচিতি করা হয় উত্তর-পূর্ব সীমান্তে রাজত্বকারী ব্যাকট্রীয় গ্রিকদের ইতিহাস জানায় একমাত্র উপাদান মুদ্রা এর সাহায্যে এই অঞ্চলে 30 জন রাজার নাম জানা যায়।

    মৌর্যওর ইতিহাস রচনার প্রধান উপাদান মুদ্রা ।এই সময় কালেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মুদ্রা পাওয়া যায়। এই মুদ্রা থেকে অনেক শাসক বা ঘটনার কথা আমরা জানতে পারি। উদাহরন স্বরুপ ব্যাকট্রীয় থেকে আগত ইন্দ্র -গ্রিক শাসকদের কথা বলা যেতে পারে।
    কোন কোন সময় অন্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য কোন ঘটনার স্পষ্ট প্রমাণ দিতে অপরাগ হয়। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল পূর্ব ভারতের শাসকদের বিরুদ্ধে গুপ্ত শাসক দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের জয়লাভ। এইভাবে গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী কতৃক শকরাজ নহপানের পরাজয়ের ইঙ্গিত মেলে সাতবাহনদের লেখমালা থেকে।
    গুপ্তওর যুগের মুদ্রা অবশ্য বিশেষ পাওয়া যায় না। মুদ্রার এই অপ্রতুলার ভিত্তিতে ঐতিহাসিক রামশরণ শর্মা আলোচ্য পর্বে সামন্ততন্ত্রের উত্থান ও বিকাশকে সুপ্রতিষ্ঠা করে।
    ধর্ম ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস জানতে মুদ্রার গুরুত্ব অনস্বীকার্য ।মুদ্রা থেকেই জানা যায় যে খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর প্রথমার্ধে পার্থিয় বংশের শাসক গণ্ডফার্নেস এবং কুষাণ বংশের শাসক বিমকদফিস বিদেশে হওয়া সত্বেও ভারতে এসে শের ধর্মের দ্বারা প্রভাবিত হয়।
    ড: দামোদর ধর্মতত্ত্ব কোশম্বি মুদ্রাতথ্যের গবেষণা দ্বারা বলেছেন যে খাঁটি সোনার মুদ্রা যেমন সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধির পরিচায়ক তেমনি নিম্নমানের মুদ্রা সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক দূরব্যবস্থার পরিচায়ক। মুদ্রায় প্রাপ্ত ছবির দ্বারা শাসকের ধর্মব্যবস্থা এবং মুদ্রার প্রাপ্ত ছবির দ্বারা কখনো কখনো শাসকের বিশেষগুনের পরিচয় পাওয়া যায়। যেমন- সমুদ্রগুপ্তের বিনোবাদন মুদ্রা সংগীতের পৃষ্ঠপোষকতার পরিচয় বহন করে।

প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান-স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ:-

মাটির তলায় কিংবা মাটির উপরে প্রাপ্ত বিভিন্ন ধরনের প্রাচীন মগর -মঠ-মন্দির -দুর্গ অট্টালিকার ধ্বংসাবশেষ সমাধিস্তম্ভ ,স্মৃতিস্তম্ভ প্রাচীন শিল্পকৃতি, দেব-দেবীর মূর্তি ,মৃৎশিল্প, মৃৎপাত্র ও তেজসপত্রাদি প্রাচীন ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান হিসেবে স্বীকৃত। এগুলি আবিস্কারের দ্বারা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থা সম্বন্ধে অবাহিত হয় ।এই সমস্ত আবিষ্কারের ভারতে বিভিন্ন সময়ে সংস্কৃতি ও শিল্পের গুণগত উৎকর্ষ উন্মোচন করতে পারে।
এই ধরণের প্রত্নতাত্তিক খননকার্যের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হল হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারো সভ্যতার আবিষ্কার।এর পূর্বে আমরাদের ধারণা ছিল আর্য সভ্যতাই ভারতের প্রাচীনতম সভ্যতা। কিন্তু এটি আবিষ্কারের ফলে আর্যসভ্যতার পূর্বের সভ্যতার কথাও জানতে পারি। আবার সাম্প্রতিক মেহেরগড় এর সুপ্রাচীনতত্ত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য ধন ও পরিবেশ দপ্তর এর কর্মীরা গোসাবা থানার এলাকায় ব্যাঘ্র প্রকল্পের অধীনে সংরক্ষিত বনাএবলে মাটি খুঁড়ে খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় ও পঞ্চম শতকের কিছু দুর্বল পত্মনির্দেশ পান ।এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পবিত্র পদচিহ্ন, একটি সূর্যমুক্তি এবং গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শ্রী বিক্রম স্বর্ণমুদ্রা।
এছাড়া সঁচিতে সারনাথের স্তুপ আবিষ্কার বাংলায় পান্ডরাজাদের সম্পর্কে জানা যায়। প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার কিভাবে মানব সভ্যতার বিবর্তনকে অনুধাবন করতে সাহায্য করে তার প্রমাণ মেহেরগড় এর প্রত্নস্থল ।এছাড়া তক্ষশীলা, সারনাথ, পাটলিপুত্র ,কৌশম্বি ,হস্তিনাপুর প্রভৃতি স্থানে অনেক প্রত্মতাওিক নিদর্শন পাওয়া যায়। অজন্তা -ইলোরা ইত্যাদি একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান-মূল্যায়ন:-

পরিশেষে একথা বলা যায় মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের ইতিহাস রচনায় প্রত্মতত্ব এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ।সুদূর অতীতের সঙ্গে ভবিষ্যতের সামঞ্জস্য বিধানের ফলে সম্ভব হয়,সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাক ঐতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে প্রাক আধুনিক যুগ পর্যন্ত ভারতীয় সভ্যতার বিকাশ ও বিবর্তনের ইতিহাসের ক্রম অনেক জটিল সমস্যা আছে যার সমাধান প্রত্নতত্ত্বের দ্বারাই সম্ভব। সামগ্রিক ইতিহাস রচনায় প্রয়োজনে অন্য বিধ ঐতিহাসিক উপাদানের পাশাপাশি প্রত্মবস্তুর গুলির নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ ব্যাখ্যার উপর গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যিক।

Leave a Comment

Translate »