নব্যপ্রস্তর যুগের বিপ্লব বলতে কী বোঝ:-

নব্যপ্রস্তর যুগের বিপ্লব বলতে কী বোঝ:-

                     বিপ্লব শব্দের সাধারন অর্থ পরিবর্তন। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সমস্ত দিকের হ্মেএেই একথা সত্য। উল্লেখ্য,যে কোনো দেশে যে কোনো কালেই অর্থ -সামাজিক, সাংস্কৃতিক,বা রাজনৈতিক হ্মেএে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সূএধরে বিপ্লব ঘটে যেতে পারে।এখানে আমাদের আলোচ্য সময় প্রত্নতাত্ত্বিক যুগের নব্যপ্রস্তর পর্যায় এবং স্থান ভারতীয় উপমহাদেশ।
                     এই অধ্যায়ের পরবর্তী আলোচনা থেকে স্পষ্টতই বোঝা সম্ভব হয়েছে যে উচ্চ -পুরাপ্রস্তর যুগের মানুষ প্রধানত খাদ্য সংগ্রাহক। বোনের ফলমূল, লতাপাতা, বন্য জন্তুর মাংস প্রভৃতি ছিল তাদের খাদ্য। তখন জীবিকানির্বাহ ছিল ভীষণ ভীষণ কঠিন ।তাদের প্রধান উপকরণ ছিল পাথর এবং পাথরের তৈরি নানান হাতিয়ার মধ্য প্রস্তর যুগে প্রস্তরায়ুধের ক্ষেত্রে কিন্তু পরিবর্তন এসেছিল। হাতিয়ার গুলি মিশ্রন হয়েছিল ও প্রয়োজন ভিত্তিক নতুন নতুন হাতিয়ার নির্মিত হয়েছিল। সাংস্কৃতিক ধারাতেও কিছু পরিবর্তন এসেছিল। যা আগেই আলোচিত হয়েছে ।কিন্তু খাদ্য আরহণের ক্ষেত্রে নতুন মৌলিক কোনো পরিবর্তন এ যুগে আসেনি‌। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বাদ দিলে বলা যায় তখনও পর্যন্ত মানুষ ছিল প্রধানত খাদ্য সংগ্রাহক। মধ্য প্রস্তর যুগের শেষ দিকে কোন কোন এলাকায় খাদ্য উৎপাদন সামান্য হলেও শুরু হয়েছিল ।কিছু কিছু কিছু  অঞ্চলে পশুপালনও বন্য শষ্য আহরণের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় পরিবর্তন আসে নব্য প্রস্তর যুগে। শুধু তাই নয়, বাসস্থান, পোশাক এবং প্রয়োজনীয়   বহু সামগ্রী আবির্ভাব ঘটে এ যুগে। এসব সূত্র ধরে গড়ে উঠতে থাকে গ্রাম। ভাবলে অবাক হতে হয় যে লোহা ,তামা প্রভৃতি ধাতুর ব্যবহার ব্যতিরেক, সে যুগের মানুষ কেবল পাথর ,হার ,এবং অবশ্যই তার উদ্ভাবনী শক্তির সাহায্যে এই সর্বঅভাবনীয় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছিল।
                     এখন নব্যপ্রস্তর বিপ্লব এবং এ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা গড়ে তোলার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা যাক।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য প্রায় 70 বছর আগে প্রখ্যাত আগে পুরাতত্ত্ববিদ গর্ডন চাইল্ড তার ‘ম্যান ম্যাকস হিমলেল্ফ’ গ্রন্থের পঞ্চম অধ্যায়ে নব্যপ্রস্তর যুগীয় বিপ্লবের তত্ত্বটি উপস্থাপন করে এবং এর কিছুকাল পর 1942 খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় তাঁর ‘হোয়াট হ্যাপেন্ড ইন হিস্ট্রি ‘গ্রন্থের তৃতীয় অধ্যায় ও এই বিষয়ে আলোচিত হয়।গর্ডন চাইল্ডের এই ধারণার পেছনে মূলকথা ছিল যে, এই যে নতুন ধরনের পাথর তথা নব্য প্রস্তর যুগের হাতিয়ারের  আবির্ভাবের সূত্রধরে মানুষের বস্তুনির্ভর জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে যায় ।তিনি জোরের সঙ্গেই দিয়েছিলেন যে নব্যপ্রস্তর যুগের  আয়ুধ বা হাতিয়ার তৈরি হওয়ার পরে ,পরেই জমি কর্ষণ করা। এবং বুনো শষ্যদানার মধ্যে আটকে না থাকে খাদ্যভান্ডার বারবার জন্য এই শস্য বীজ মাটিতে রোপন করার বিভিন্ন প্রয়াস গুরুত্ব পায় ।বলাবাহুল্য পাথরকে ক্রমশ মএিম করা ।এবং এই কাজের উপযুক্ত পাথরের নানা  হাতিয়ারের  মাধ্যমেই এই বিপ্লববাদ ত্বও ঘটনা সম্ভবপর হয়েছিল।গর্ডন চাইল্ড যখন নব প্রস্তর যুগ  প্রসঙ্গে বিপ্লব শব্দটি সংযুক্ত করেছিলেন তারপর থেকে আজ অবধি আমাদের হাতে নব্য প্রস্তর যুগের খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে গ্রামের উদ্ভব ও অন্যান্য বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বহু নতুনত্ব সংগৃহীত হয়েছে।

Leave a Comment

Translate »